Posts

মাদকের নেশা - কি খায়, কেন খায়?

আলোচ্য বিষয়টি পাঠ করার পর জানতে পারবেন ২। কেন মানুষ নেশা দ্রব্যের প্রতি আকৃষ্ট হয় ৩। নেশা দ্রব্যের সাথে প্রেমভালবাসার সম্পর্ক মানুষের শরীর যেমন শত শত মৌলিক এবং যৌগিক  রাসায়নিক পদার্থের সমন্বয়ে  গঠিত। তেমনি সিগারেট   , মদ   , ফেন্সিডিল , হেরোইন   , ইয়াবা ইত্যাদি সব মাদকদ্রব্যগুলোও রাসায়নিক পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত। দেহের রাসায়নিক পদার্থের সাথে যখন মাদকের রাসায়নিক দ্রব্যের  বিক্রিয়া হয় তখন দেহের নাজুক কোষগুলো মরে যায়, কিছু আধামরা হয়ে যায় । কোষের ভেতরে এই ধ্বংস যজ্ঞ হয়  তখন আমাদের ব্রেনের ভেতর সবকিছু ঘোলাটে হয়ে যায়  , বাড়ী ধ্বসে পড়লে যেমন চারপাশ  ধুলোর ঢেকে যায় তেমনি মাথার মধ্যেও এইরকম ধোঁয়াশা তৈরি হয়, চিন্তা এবং চেতনা আবছা হয়ে যায়, এই অবস্থাকেই মাতাল অবস্থা বলে । মানুষ এই অবস্থাকে নাম দেয় ফিলিংস। মাতলামো বা ফিলিংস করার বিষয়টা অনেকটা এইরকম- আপনার ঘরে আগুন লেগেছে সবকিছু পুড়ে ছায় হয়ে যাচ্ছে  , ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে আর আপনি কিছু দেখতে পাচ্ছেন না বলে মজা পাচ্ছেন  , পোড়া গন্ধ নাকে আসছে বলে আপনার খুব হাঁসি পাচ্ছে! মাদ...

ডায়াবেটিকস, একটি আধ্যাত্মিক পর্যালোচনা

ডায়াবেটিকস, একটি  আধ্যাত্মিক পর্যালোচনা ' আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাঁড়া , বুকের মাঝে   বিশ্বলোকের পাবি সাড়া ' --------------- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ডায়াবেটিক এর সাথে বসবাস করা কঠিন কাজ। প্রথম যখন আপনার ডায়াবেটিকস ধরা পড়ে, তখনকার কথা মনে আছে। নিয়ম করে   ঔষধ খাওয়া, মিষ্টি জাতীয় খাবার খেয়ে ফেলা, হাঁটাতে আলসেমি করা ইত্যাদি সবকিছু অনেক কঠিন বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু একটা সময় পর এইসব কঠিন কাজগুলোই জীবনের অংশ হয়ে গেছে । এখন আর ডাক্তারকে বলা লাগে না,   কি করতে হবে;   আর কি করা যাবে   না।   নিজের শরীরটাই বিভিন্ন ভাবে বুঝিয়ে দেয় নিয়ম মেনে চলবা তো ভাল থাকবা, পরিশ্রম করবা তো সুস্থ থাকবা। নিয়ম মেনে ভাল থাকো   নইলে দরজার কাছে কঠিন কঠিন সব রোগগুলো তোমার শরীরে বাসা বাধার জন্য অপেক্ষা করছে।   এখন তুমিই বেছে নাও  , শৃঙ্খলা মেনে সুস্থ সবল ভাবে বেঁচে থাকবা, নাকি আলসেমিতে গা ভাসিয়ে দিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবা। সচেতন মানুষ কঠিন শৃঙ্খলার পথটাই বেছে নেয়  , বেঁচে থাকার জন্য, শান্তিতে থাকার জন্য। বেঁচে থাকার মত সুখ তো আর কোন কিছুতে নাই। মরে গেলেই তো স...

কেন ডায়াবেটিকস মহামারীর রুপ নিল

কেন ডায়াবেটিকস হয়? কেন এখন প্রতিটি বাড়ীতে ডায়াবেটিকস রোগী দেখতে পাওয়া যায়? মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া এই রোগটি মানব সভ্যতাকে কি বার্তা দিতে চাচ্ছে?   এখন সারা পৃথিবীতে প্রতি ১১ জনে ১ জন ডায়াবেটিকস এ আক্রান্ত । খুব কম বাড়ী খুঁজে পাওয়া যাবে যে বাড়ীতে একজন ডায়াবেটিকস রোগী নাই। মনে প্রশ্ন জাগে হটাৎ করে কেন   ডায়াবেটিকস সারা পৃথিবীতে মহামারির আকার ধারন   করলো? একটু পর্যবেক্ষণ করলেই দেখবেন  , পৃথিবীর ইতিহাসে মানুষ এত আরাম আয়েশ কখনই উপভোগ করেনি। এখন একটা   সুইচ চাপ দিলেই মুহূর্তে হাতের নাগালে সব কিছু চলে আসে। ঠাণ্ডা চাইলে ঠাণ্ডা গরম চাইলে গরম, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাতাস ইচ্ছেমত পাওয়া যায়। অন্ধকার ঘর মুহূর্তে ঝলমলে আলোকিত হয়ে যায়।   আগের যুগের ১ বছরের পথ,   এখন ১ দিনে   অতিক্রম করা যায়।

ডায়াবেটিকস হওয়ার উপকারিতা

Image
“Just open your eyes and remove the sadness. There is a blessing in everything, waiting to be set free by your faith.” --- Unknown   ডায়াবেটিকস নামটা শুনলেই অজানা এক আতংক মনকে আচ্ছন্ন করে । কিন্তু আমরা জানি পৃথিবীর কোন কিছুই সম্পূর্ণ ক্ষতিকর কিংবা সম্পূর্ণ উপকারি নয়। সবকিছুর ভেতরেই ভাল এবং মন্দ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। আমরা সাধারন ভাবে সেই বিষয়গুলোই গ্রহন করি যেগুলোর ভাল দিক গুলো বেশি । এবং সেই বিষয় গুলো এড়িয়ে চলি যেগুলোর মন্দ দিক  বেশি। ডায়াবেটিকস এরও ভাল এবং মন্দ দিক আছে । যদিও  ডায়াবেটিকসকে কেউ নিমন্ত্রন করে নিয়ে আসে না  , ডায়াবেটিকস চলে আসে জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং জীবন-যাপনের ভুল পদ্ধতির কারনে । তাই ডায়াবেটিকসে একবার আক্রান্ত হয়ে গেলে একে সহ্য করে নিতে হয়  , একে মোকাবেলার জ্ঞান অর্জন করতে হয়, আমৃত্যু এর সাথে বসবাস করতে হয়! তাই ডায়াবেটিকস এর উপকারিতাগুলোকে খুঁজে বের করতে পারলে  , এর সাথে জীবনযাপন করা অনেক সহজ হয়। আমরা এখানে ডায়াবেটিকস এর উপকারি দিকগুলো খুঁজে বেরকরার চেষ্টা করেছি। আশা করি  এই তথ্যগুলো জানার পর ডায়াবেটিকস এর সাথে বসবাস করা অনেক সহ...

আত্মার ভেতর এবং বাইরের রহস্য

Image
আত্মা কি? আত্মার কাজ কি? আত্মাকে অস্বীকার করে কি বেঁচে থাকা যায়?   শরীরের    যে অংশে    স্বপ্ন এবং ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তথ্য নিয়ে আসে    তাকেই আত্মা বলে। আত্মার কাজই হচ্ছে যা কিছু অদৃশ্য আছে তাকে দৃশ্যমান জগতে নিয়ে আসা এবং ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করা।  পৃথিবীতে নতুন জ্ঞান যুক্ত করা এবং পুরানো জ্ঞানের জঞ্জাল মুক্ত করার কাজ করে আত্মা। পৃথিবীতে ভারসাম্য সৃষ্টিতে দিনরাত অবিরাম কাজ করে যায় আত্মা। শরীর মন এক সময় বিশ্রাম নেয়,    ঘুমিয়ে পড়ে । আত্মা ঘুমায় না  , বরং শরীর ঘুমিয়ে পড়লে আত্মা শরীর ছেড়ে বাইরে বের হয়ে আসে।  তার কাজের পরিধি শরীর ছাড়িয়ে পৃথিবীময় বিস্তৃত। 

মনের ভেতর এবং বাইরের রহস্য

Image
মন কি? মন কিভাবে কাজ করে? মনের কি আলাদা কোন  অস্তিত্ব আছে? মনঃ পঞ্চ    ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যকে যে সত্তা বিচার বিশ্লেষণ করে নতুন তথ্য তৈরি করে।    ক্ষমতা প্রদান করে, তথ্য    বড় করে অথবা ছোট করে, নানা রঙে রাঙিয়ে তোলে  , গতি দেয় অথবা পেছনে টেনে ধরে, গ্রহন অথবা বর্জন করে তাকেই মন বলে  ।   দুধ, চিনি, পানি এই তিনটি জিনিস ব্যবহার করেই হাজারো রকম মিষ্টি তৈরি করে। তেমনি চোখ, কান  , নাক, জিহ্বা  , চামড়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য দিয়েই মন    হাজার  , লক্ষ, কোটি কোটি জিনিস বানায় ।  পৃথিবীতে মানুষের  তৈরি যা কিছু আছে তার প্রত্যেকটি প্রথমে মনের ভেতরে তৈরি হয়েছে তারপর বাস্তব দুনিয়াই এসেছে। মনের গবেষণাগারে যেমন বস্তু তৈরি হয় তেমনি আমাদের দুনিয়াকে সুন্দর, মধুময়, প্রশান্তিময় করার জন্য আবেগ তৈরি হয়। শুধু যুক্তি দিয়ে কিংবা যুক্তির উপর ভর করে পৃথিবী তৈরি হলে দুনিয়া এতো সুন্দর হত না, আবেগই পৃথিবীকে সুন্দর করে  , পৃথিবীতে দৃশ্যমান সমস্ত আবেগ মনের ভেতরে সৃষ্টি হয়েছে।   

শরীরের ভেতর এবং বাইরের রহস্য

Image
আমি কে? আমি মানে কি? আমার শরীর  , মন  , নাকি আত্মা? প্রকৃত আমির অস্তিত্ব কোথায় ? শরীর মন আত্মার নামটা শুনেই বুঝতে পারছেন এগুলো আমাদের কত পরিচিত শব্দ! আমরা সবাই একটি করে শরীর মন এবং আত্মার অধিকারী। আপনি    নাস্তিকও যদি হয়ে থাকেন তাহলে আমি নিশ্চিত শরীর  , মন এবং আত্মার আলোচনায় আপনি এমন কিছু তথ্য, জ্ঞান খুঁজে পাবেন যা আপনাকে নতুনভাবে ভাবতে সেখাবে। আপনারা দেখতে পাবেন    আমাদের জানা জগতের মাঝে কত অচেনা তথ্য বা জ্ঞান লুকিয়ে আছে!    সেই সব অজানা কিছু বিষয় নিয়েই    আমরা আলোচনা করবো    শরীর, মন আত্মা বিষয়ক সিরিজ আলোচনায়। তবে    এখানে শুধু শরীর বিষয়ে কথা বলব- পর্যায়ক্রমে মন এবং আত্মা নিয়ে আলোচনা করবো!